২০২৫-৩৪ সাল

১০ বছরে বৈশ্বিক কৃষি ও মৎস্যপণ্যের উৎপাদন বাড়বে ১৪%

বৈশ্বিক কৃষি ও মৎস্যপণ্যের উৎপাদন ২০২৫-৩৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে ১৪ শতাংশ বাড়বে।

বৈশ্বিক কৃষি ও মৎস্যপণ্যের উৎপাদন ২০২৫-৩৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে ১৪ শতাংশ বাড়বে। এর মধ্যে দানাদার শস্যের (গম, চাল, ভুট্টা) বার্ষিক গড় উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ১ শতাংশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) যৌথ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রাখবে উৎপাদনশীলতা। উল্লিখিত ১০ বছরে তা প্রতি বছর গড়ে দশমিক ৯ শতাংশ হারে বাড়বে। যদিও এ সময় শস্য উৎপাদনে ব্যবহৃত জমির পরিমাণ গড়ে বাড়বে মাত্র দশমিক ১৪ শতাংশ হারে, যা আগের ১০ বছরের (২০১৫-২৪ সাল) দশমিক ৩৩ শতাংশের তুলনায় অনেক কম।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০৩৪ সালের মধ্যে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন ৩২০ কোটি টনে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে গম উৎপাদন ২০২৪ সালের চেয়ে ৭ কোটি ৪০ লাখ টন বেড়ে পৌঁছবে ৮৭ কোটি ৪০ লাখ টনে। এ ৭ কোটি ৪০ লাখ টন অতিরিক্ত উৎপাদনে এশিয়ার দেশগুলোর অবদান থাকবে ৪ কোটি ২০ লাখ টন।

গম উৎপাদনে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। আগামী দশকে দেশটি বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে। শস্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন প্রবৃদ্ধিতে ভারতের অবদান দাঁড়াবে ২৯ শতাংশে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে নেয়া জাতীয় নীতিমালার আওতায় গমের আবাদি জমি সম্প্রসারণ।

ভুট্টার বৈশ্বিক উৎপাদন বর্তমানের চেয়ে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টন বেড়ে ২০৩৪ সালে ১৪০ কোটি টনে পৌঁছবে। এ প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসবে যুক্তরাষ্ট্র (৩ কোটি ৩০ লাখ টন), ব্রাজিল (৩ কোটি ২০ লাখ টন) ও চীন (২ কোটি ৭০ লাখ টন) থেকে।

বিশ্বব্যাপী চাল উৎপাদন ২০২৪ সালের তুলনায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন বেড়ে ২০৩৪ সাল নাগাদ ৫৯ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। কম ও নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশগুলোর ফলন বৃদ্ধি এ প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বের শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে ভারত। চালের বৈশ্বিক উৎপাদন প্রবৃদ্ধিতে দেশটির অবদান হবে ৪১ শতাংশ। এর পরই সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে যাচ্ছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো।

উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত শস্যের বার্ষিক গড় দাম নিম্নমুখী থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া এ সময় বৈশ্বিক খাদ্যশস্য বাণিজ্যেরও সম্প্রসারণ ঘটবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আওতায় চলে আসবে বৈশ্বিক মোট উৎপাদনের ১৭ শতাংশ, যা আগের সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। এ ১০ বছরে গম রফতানি ২ কোটি ১০ লাখ টন এবং ভুট্টা ২ কোটি ৯০ লাখ টন বাড়বে।

আগামী ১০ বছরে বিশ্বব্যাপী সয়াবিনের বার্ষিক উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার হবে গড়ে ১ শতাংশ, আগের দশকে যা ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যান্য তেলবীজ যেমন সরিষা, সূর্যমুখী ও চীনাবাদামের উৎপাদন প্রবৃদ্ধিও শ্লথ হয়ে আসবে। এসব তেলবীজের বার্ষিক গড় উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার হবে ১ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগের ১০ বছরের ২ দশমিক ৭ শতাংশের তুলনায় অনেক কম।

আরও